আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা আলাভি গোরগানী গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিনিধিগণ ও হাওযা ইলমিয়া কোমে অধ্যয়নরত পাকিস্তানি ছাত্রদের সাথে সাক্ষাত অনুষ্ঠানে ইরাক ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য ইসলামি দেশসমূহে ওয়াহাবী ও তাকফিরী (যারা অন্যদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করে) গোষ্ঠীর অপরাধকর্মের প্রতি ইশারা করে বলেন : ইসলামি দেশসমূহে শিয়াদের যে রক্ত ঝরানো হয় তাতে ইমামে যামানা (আ. ফা.) এর অন্তর কাঁদে; কেননা তারা (তাকফিরীরা) তাঁর (আ. ফা.) অনুসারীদেরকে অসহায় অবস্থায় হত্যা করে।
শিয়া বিশ্বের এ বিশিষ্ট মারজায়ে তাক্বলিদ বলেন : যখন পাকিস্তান, ইরাক ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিয়ারা বিপদের মাঝে থাকে তখন ইরানের শিয়ারাও অশান্তিতে থাকে। কেননা সকল মানুষ একটি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ন্যায়।
তিনি বলেন : পাকিস্তানের ওলামাদের উচিত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং তাকফিরী দলগুলো কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোসহ এ বিষয়গুলো নিরাপত্তা ও মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাসমূহের কানে পৌঁছানো।
পাকিস্তানের জনগণের বিরাট একটি অংশ শিয়া মাযহাবের অনুসারী –এ কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ আলাভী গোরগানী, পাকিস্তানের সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক এবং তাদের সম্মুখে নিজেদের দাবী উত্থাপনের প্রতি পাকিস্তানের শিয়াদেরকে আহবান জানান।
তাকফিরী দলগুলোকে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে থাকে –এ কথা উল্লেখ করে হাওযা ইলমিয়া (উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠা) কোমে’র বিশিষ্ট উস্তাদ বলেন : এ দলগুলোর প্রতি বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের সমর্থন তাদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার কারণে নয়, বরং মুসলমানদের মাধ্যমে শিয়াদেরকে ধ্বংস করা এবং মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা তাদের মূল উদ্দেশ্য।
আয়াতুল্লাহ আলাভি গোরগানী বলেন : সাম্রাজ্যবাদীরা জানে যে, যদি শিয়া মাযহাব ধ্বংস হয়ে যায়, তখন মুসলমানদের মাঝে আর কোন তত্পরতা থাকবে না এবং তারা বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে।
হাওযা ইলমিয়া কোমে’র প্রথম শ্রেনীর এ উস্তাদ বলেন : শিয়া মাযহাব ইসলামের উদ্দীপনা শক্তি। এ কারণে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য মুসলমানদের দ্বারা শিয়াদের মোকাবেলায় নেমেছে। এ কারণেই তারা ওয়াহাবীদেরকে সহযোগিতা করে থাকে, সুতরাং আমাদের উচিত এ ষড়যন্ত্রের মূল উত্পাটন করা।
হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা আলাভি গোরগানী, মসজিদুন নববী (স.) এর জুমআর খতিব কর্তৃক ইমামে যামানা (আ. ফা.) এর প্রতি অবমাননার নিন্দা জানিয়ে বলেন : এ ধরণের লোকেরা ওয়াহাবীদের পক্ষ হতে সুবিধা ভোগ করে, আর ওয়াহাবীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদতপুষ্ট।
ইসলামি বিপ্লবের নেতা ও মারজায়ে তাক্বলিদগণ ইরান হতে ওয়াহাবিদের মূলোত্পাটনের বিষয়ে সচেষ্ট –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : ইরানের ধর্মীয় নেতা ও এদেশের কর্মকর্তারা নিজেদের বক্তব্যসমূহে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবেলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এর কারণ হচ্ছে ওয়াহাবীদের মূল শক্তি দ্বাতা হচ্ছে এ দু’টি দেশ। ইরানের ধর্মীয় নেতা ও কর্মকর্তাদের পাকিস্তানসহ অন্যান্য এলাকার শিয়াদের জন্য সহানুভূতি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামি বিপ্লবের নেতার অবস্থান সম্পর্কে হযরত আয়াতুল্লাহ আলাভী গোরগানী বলেন: ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা সকল মুসলমানদের বিষয়ে নিয়ে ভাবেন। তাই যে সকল অনাকাঙ্খিত ঘটনা বিভিন্ন ইসলামি দেশে ঘটে সেগুলোর ব্যাপারে ইসলামের বিপ্লবের নেতা এবং মারজায়ে তাক্বলিদগণকে উদ্বিগ্ন হন।#